Logo
প্রিন্টের তারিখ: 08 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: Nov 8, 2026

সংবাদ শিরোনাম : জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: র‍্যালী,আলোচনা সভা,,রচনা প্রতিযোগিতা।

জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: র‍্যালী,আলোচনা সভা,,রচনা প্রতিযোগিতা।


মোঃ মান্নান  পটুয়াখালী প্রতিনিধি 

“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”

জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ০১ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে সুন্দরবন কোয়ালিশনের উদ্যোগে এবং গোলাপ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার প্রজেক্ট (জিপিইউএস)-এর বাস্তবায়নে যুব সমাজকে সচেতন ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে র‍্যালী,আলোচনা সভা এবং রচনা প্রতিযোগিতার  আয়োজন করা হয়।

"লোকালি লেড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইন দ্যা বাংলাদেশ কোস্টাল রিজিয়ন প্রজেক্ট (ফেইজ -৩)"-এর আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় যুব সমাজকে সচেতন ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশ বিনির্মাণে তাদের উৎসাহিত করা। আয়োজনের অংশ হিসেবে যুবদের মেধা ও সচেতনতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ ইউনুস আলী হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে- জাতীয় যুব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজকের এই যুব দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যুব সমাজই একটি দেশ ও জাতির প্রধান শক্তি। 'দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ'—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আমাদের যুবদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে যুব সমাজ—বিশেষ করে ভলান্টিয়ার পুলের সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবরা যদি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব নেয় এবং নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলে, তবে আমরা দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে সক্ষম হব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জনাব মোঃ কাওসার মনির,সমাজসেবক লতাচাপলী ইউনিয়ন। তাঁর বক্তব্যে তিনি যুব সমাজকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “যুব সমাজই একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবদের দক্ষ ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই সমাজ গঠনে প্রশিক্ষিত যুবদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” এই যুব সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। 
সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মাইনুদ্দিন (ডিভিশনাল কোঅর্ডিনেটর)সুন্দরবন কোয়ালিশন।
জনাব মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব(ডিভিশনাল ফাইন্যান্স এন্ড এডমিন অফিসার)সুন্দরবন কোয়ালিশন।
উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবু সালেহ প্রজেক্ট অফিসার(জিপিইউএস)। এরা প্রত্যেকে সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে লতাচাপলী  ইউনিয়ন ভলান্টিয়ার পুলের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ভলান্টিয়ার পুলের সদস্য মোঃ নেছার উদ্দিন বলেন, "আজকের এই আয়োজন আমাদের জন্য দারুণ একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অনেক নতুন কিছু শিখতে পেরেছি। ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা আমাদের জন্য গর্বের এবং আমরা চাই আগামীতে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এমন আরও কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।"

আরেক সদস্য বলেন, "উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমরা সবসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকি। যুব সমাজ যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় সঠিক প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পায়, তবে আমরা আমাদের এলাকাকে যেকোনো বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। আজকের এই আলোচনা সভা আমাদের সমাজসেবায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।"

এলএলডিআরআর প্রকল্পটি মার্গারেট এ. কারগিল ফিলানথ্রপি (MACP)-এর অর্থায়নে, The Share Trust Inc.-এর সহযোগিতায় এবং স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পে হোস্ট সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারী এ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস)।

সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন,
জনাব মোঃ আঃ রহিম আকন(নির্বাহী পরিচালক)
গোলাপ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা। 
তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
যুবসমাজ হলো একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, সাহস ও সম্ভাবনার নাম। আজকের যুবকরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, দেশ পরিচালনা করবে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমরা জানি, যুবসমাজ চাইলে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু চাকরির পেছনে ছুটলেই হবে না; নিজেদের দক্ষ করে উদ্যোক্তা হতে হবে, অন্যের কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, যুবসমাজ জাগলে দেশ জাগবে, যুবসমাজ এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি দক্ষ, মানবিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করি।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, মেধা বিকাশে উৎসাহ প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 একই সঙ্গে যুবদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে এ কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সভা সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
strong>© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ NBD BANGLA NEWS
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ BD IT SUPPORT
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF